আষাঢ়ের প্রথম দিনে অজয়ের তটভূমি: জয়দেব স্মরণে সুরের মূর্ছনা
সৌভিক সিকদার, নিউজ হিন্দুস্থান -:
মেঘের গুমোট ডাক আর আষাঢ়ের প্রথম দিনের স্নিগ্ধ বর্ষণ - এই দুইয়ের মেলবন্ধনে বীরভূমের জয়দেব-কেন্দুলী যেন সেজে উঠেছিল নতুন সাজে। অজয় নদের পাড়, যেখানে দ্বাদশ শতকের প্রেমের কবি জয়দেব গোস্বামীর ধ্যানে রচিত হয়েছিল অমর কাব্য ‘গীতগোবিন্দ’, সেই পুণ্য ভূমিতে পয়লা আষাঢ় হয়ে উঠল এক আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পীঠস্থান। স্থানীয় মানুষ এই দিনটিকে পরম শ্রদ্ধায় ‘গীতগোবিন্দ দিবস’ হিসেবে পালন করেন।
জয়দেব অঞ্চল সংস্কৃতি সেবা সমিতির উদ্যোগে ‘ভক্তিভবন’-এর আঙিনায় এবার পালিত হলো এই বিশেষ দিবস ও স্থানীয় সাহিত্য আড্ডার ৩১তম বর্ষপূর্তি। কবির সেই বিখ্যাত শ্লোক—‘মেঘৈর্মেদুরমম্বরং বনভুবঃ...’— যেন বৃষ্টির ধারার মতোই মিশে গিয়েছিল অনুষ্ঠানের আবহে।সাহিত্য বাসরের শুরুতেই শিল্পী শান্তি কুমার রজকের কণ্ঠের গীতগোবিন্দ পাঠ ও সুরের মূর্ছনা উপস্থিত শ্রোতাদের এক মায়াবী পরিবেশে নিয়ে যায়। কবি ও প্রাবন্ধিক ডা. অরুণাভ সেনগুপ্তের পৌরহিত্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি রণজিৎ মুখোপাধ্যায় স্বাগত ভাষণ দেন।
সারা দুপুর ধরে চলল কবিতা, গান ও মননশীল আলোচনার স্রোত। একদিকে যেমন ছিল সাহিত্য চর্চা, অন্যদিকে তেমনই ছিল ‘চণ্ডীদাস’ পত্রিকা প্রকাশের আনন্দ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবি ও সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে কেন্দুলীর মাটি যেন নতুন করে অনুপ্রাণিত হলো।
এদিন অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সম্মান জানানো হয় কৃতি ব্যক্তিত্বদের। সমাজসেবী সুবোধ চন্দ্র রুজ পেলেন ‘সেখ মারহুম স্মৃতি সম্মাননা’ এবং সাংবাদিক কুদ্দুস আলিকে তুলে দেওয়া হলো ‘সুভাষ কবিরাজ স্মৃতি পুরস্কার’—যা ছিল আয়োজকদের পক্ষ থেকে এক পরম প্রাপ্তি।
কবি আনারুল হকের মায়াবী সঞ্চালনায় আষাঢ়ের এই সাহিত্য বাসর কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং হয়ে উঠল অজয়ের তীরে সংস্কৃতির এক অনন্য মিলন উৎসব। বৃষ্টির গান আর সাহিত্যের সুর মিলেমিশে কেন্দুলীর আকাশে যেন এক অবিস্মরণীয় কবিতার জন্ম দিল। জয়দেবের অমর শ্লোক— ‘মেঘৈর্মেদুরমম্বরং বনভুবঃ...’ যেন আবারও জীবন্ত হয়ে উঠল অজয়ের তটভূমিতে।
Comments
Post a Comment