লালপুরের নবনির্মিত বগলামুখী মন্দিরে আধ্যাত্মিক ও সেবামূলক উৎসব
শুভম ঘোষ, নিউজ হিন্দুস্থান -:
সম্প্রতি বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটি থানার কুস্থলীয়া এলাকার লালপুরে এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো মা বগলামুখী দেবীর মন্দির। ‘আনন্দময়ী গ্রুপ অফ কোম্পানি’ ও ‘বৈদিক জাগৃতি সঙ্গম’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মহতী অনুষ্ঠানে বাঁকুড়া সহ বিভিন্ন জেলা ও রাজ্য থেকে আসা কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে।
দিনভর বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান, হোম-যজ্ঞ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে লালপুর এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ও আনন্দময়ী গ্রুপের চেয়ারম্যান হৃদয় হালদার জানান, ৪০ বছর আগের এক দৈববাণী ও সাধুর নির্দেশে আজকের এই মন্দির প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। মন্দিরের পাশাপাশি এই প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন তিনি। ডাক্তার হালদার বলেন, “আমরা চাই এই ধাম থেকে সারা ভারতবর্ষে সেবামূলক কাজ ছড়িয়ে দিতে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।”
অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, বরং সেবামূলক কাজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিন ৫০০ জন দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীকে স্কুলব্যাগ, বই ও খাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া বহু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষকে হুইলচেয়ার ও চশমা বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এই সংগঠনের উদ্যোগে ৭৫ জন ব্যক্তির বিনামূল্যে ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
বিশিষ্ট জ্যোতিষী অরূপ বোস ও ঝাড়খণ্ডের বিজেপি নেতা মুরারী ভূষণ সিং সহ বহু বিশিষ্টজন এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উপস্থিত ভক্ত অনিমেষ মিত্র বলেন, “ডাক্তারবাবুর এই উদ্যোগ শুধু মন্দির প্রতিষ্ঠায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সেবামূলক কেন্দ্র হয়ে উঠছে।” মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, ভবিষ্যতে এই স্থানটি পর্যটন, শিক্ষা ও গবেষণার এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা বাঁকুড়া তথা সংলগ্ন জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।
Comments
Post a Comment