​মাঝ-জলাধারে ফেটে গেল নৌকা, স্থানীয় চালকদের তৎপরতায় রক্ষা ১৪ পর্যটকের


অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, নিউজ হিন্দুস্থান -:
  
     বড়সড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেলেন ১৪ জন পর্যটক। মাইথন জলাধারের মাঝ-জলাধারে পাথরের ধাক্কায় নৌকা ফুটো হয়ে জল ঢুকতে শুরু করলে স্থানীয় নৌকা চালকদের অসীম সাহসিকতায় প্রাণে বাঁচলেন শিশু ও মহিলাসহ ওই পর্যটকরা। এই ঘটনায় পর্যটকদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, মাইথনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল।

      ​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুরে মাইথনের ‘মজুমদার নিবাস’ ঘাট থেকে ওই পর্যটকরা ‘সবুজ দ্বীপ’ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন। জলাধারে জলস্তর স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকায় দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছাতেই নৌকাটি জলের নিচে থাকা একটি বিশাল পাথরের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। নৌকার তলদেশ ফেটে হু-হু করে জল ঢুকতে শুরু করলে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

  ​  সেই সময় ঝাড়খণ্ডের ‘বাবু ঘাট’ এলাকায় থাকা নৌকা চালকরা চিৎকার শুনে নিজেদের নৌকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকারী চালকদের বুদ্ধিমত্তায় আতঙ্কিত পর্যটকদের শান্ত করে অতি সতর্কতার সঙ্গে তাদের অন্য নৌকায় স্থানান্তরিত করা হয়। চালকদের এই তৎপরতায় বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পান ১৪ জন।

       ​ঘটনার পরই মাইথনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। অভিযোগ, অধিকাংশ নৌকায় লাইফ জ্যাকেটের অভাব রয়েছে। নিয়ম থাকলেও পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট পরানোর ক্ষেত্রে প্রশাসন ও চালকদের মধ্যে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। এত বড় পর্যটন কেন্দ্রে কোনো স্থায়ী লাইফ গার্ড বা বিপর্যয় মোকাবিলা দল না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। 

     পর্যটকদের দাবি, অবিলম্বে নিয়মিত নিরাপত্তা তদারকি, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট এবং স্থায়ী উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করুক প্রশাসন। পাশাপাশি, জলের স্তর অনুযায়ী নৌ-পথ চিহ্নিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের এই বিষয়ে নড়েচড়ে বসা এখন সময়ের দাবি।

Comments

Popular posts from this blog

পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করল আমতা নিত্যানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রতির বন্ধনে পালিত হলো লাচ্ছা সেমাই উৎসব

ইন্ডিয়া পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের ১০৪ বছর প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন