প্রথম ক্যাবিনেটেই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় ও আইনি সংস্কারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ শুভেন্দুর
রিমা ঘোষ, নিউজ হিন্দুস্থান -:
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই প্রশাসনিক সংস্কার ও জনকল্যাণে একগুচ্ছ কড়া ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারের এই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর সরকার 'ডবল ইঞ্জিন' মডেল অনুসরণ করে কেন্দ্রের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় বজায় রেখে রাজ্যের উন্নয়নকে নতুন গতি দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে বর্তমানে চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। বরং পূর্ববর্তী সরকারের সমস্ত জনহিতকর প্রকল্পগুলি চালু রাখার পাশাপাশি সেগুলিতে স্বচ্ছতা আনা হবে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে তিনি পশ্চিমবঙ্গে অবিলম্বে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার সরাসরি সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’-র মতো প্রকল্পগুলিও এখন থেকে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।
রাজ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফ-এর জন্য ঝুলে থাকা জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও নিরাপত্তা পরিকাঠামো মজবুত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নজরদারিতে সম্পন্ন হবে।
এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) কার্যকর করার ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “এতদিন সংবিধানের মূল চেতনাকে উপেক্ষা করে পুরনো আইন মেনে কাজ চলছিল। আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক কাঠামো মেনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় এল।”
এছাড়া সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি এবং পুলিশি ব্যবস্থাকে নতুন ফৌজদারি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজও শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রথম দিনের এই রণকৌশল কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Comments
Post a Comment