স্ট্রং রুমে বন্দি ভাগ্য: পশ্চিম বর্ধমানে কার পাল্লা ভারী?
রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, আসানসোল -:
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ মিটতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এখন উৎকণ্ঠার প্রহর। জেলার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের ভাগ্য এখন ইভিএমে বন্দি হয়ে কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে স্ট্রং রুমে। মাঠের লড়াই শেষ হলেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর অঙ্ক কষার পালা।
২০২১-এর নিরিখে জেলার রাজনৈতিক মানচিত্র ছিল দ্বিধাবিভক্ত। ৯টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ৬টি (আসানসোল উত্তর, বারাবণি, জামুড়িয়া, রানীগঞ্জ, পাণ্ডবেশ্বর ও দুর্গাপুর পূর্ব)। অন্যদিকে, বিজেপি জিতেছিল ৩টি আসন (আসানসোল দক্ষিণ, কুলটি ও দুর্গাপুর পশ্চিম)। তবে এবারের লড়াইয়ে অনেক নতুন সমীকরণ যুক্ত হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে শুধু রাজনৈতিক আদর্শ নয়, বরং শিল্পাঞ্চলের সমস্যা, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন এবং স্থানীয় বিক্ষোভ বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রার্থী বদল এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলল, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
পর্যবেক্ষকদের মতে- আসানসোল দক্ষিণ ও কুলটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা; রানীগঞ্জ ও পাণ্ডবেশ্বরে ত্রিমুখী লড়াই ফলাফলে বড় চমক দিতে পারে। অন্যদিকে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ‘সুইং ভোটাররা’ই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারেন।
শাসক দল তাদের দুর্গ ধরে রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে বিজেপি আশাবাদী তাদের আসনের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা এবং বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তির অভিযোগ থাকলেও, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকলেন তা জানা যাবে কেবল গণনার দিন।
পশ্চিম বর্ধমানের এই 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্ট' কি ঘাসফুলের রঙেই থাকবে, নাকি পদ্ম ফুটিয়ে বড় কোনো বদল আনবে গেরুয়া শিবির? সব প্রশ্নের উত্তর এখন তালাবন্দি হয়ে রয়েছে জেলা সদরের স্ট্রং রুমে। এখন শুধু অপেক্ষা কাউন্টিং ডে-র।
Comments
Post a Comment