শ্বশুরবাড়িতে জামাইয়ের রহস্যমৃত্যু! মদ্যপ অবস্থায় আত্মহত্যার প্রাথমিক অনুমান পরিবারের
অনন্ত রুইদাস, পাণ্ডবেস্বর:-পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকে চাঞ্চল্য। গোগলা অঞ্চলের রসিকডাঙ্গা গ্রামে উদ্ধার হল এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ। মৃত যুবকের নাম পূজন কুমার চৌধুরী, বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পুলিশ ইতিমধ্য়েই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের অন্তর্গত রসিকডাঙ্গা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত যুবক আদতে গয়া জেলার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে তিনি এই এলাকাতেই ছিলেন এবং শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। পেশায় তিনি একজন তাড়ি (খেজুর রস) সংগ্রহকারী ছিলেন। পরিবারের দাবি, কোনো পারিবারিক বিবাদ নয়, বরং অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরেই ঘটে গিয়েছে এই অঘটন। মৃতের শাশুড়ির বক্তব্য: "ও আমার জামাই ছিল। কারো সাথে কোনো লড়াই-ঝগড়া হয়নি। স্রেফ নেশার ঘোরে ফাঁসি লাগিয়ে নিয়েছে। আমরা বুঝতেই পারিনি ও এমন কিছু করবে।" মৃতের স্ত্রী (কাজল কুমারী)-র বক্তব্য: "আমাদের বিয়ের ১০ বছর হয়ে গেছে। রাত ৯টা-৯:৩০টা নাগাদ ও নিজের ঘরে একা ছিল, আমরা বাড়ির অন্য অংশে ছিলাম। ও প্রচণ্ড নেশা করেছিল, সেই ঘোরেই এই কাণ্ড করেছে।" খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লাউদোহা থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে দুর্গাপুর জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি নিছকই আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে পরিবারের নিশ্চিত দাবি, মদ্যপ অবস্থায় নেশার ঘোরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পূজন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। শ্বশুরবাড়িতে এসে যুবকের এই রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Comments
Post a Comment