মঙ্গলকোটে প্রচারে ঝড় তুলছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী
জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, মঙ্গলকোট -:
বাম আমলে মঙ্গলকোট এলাকায় খুন ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছিল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দারা বোমার শব্দ শুনে আতঙ্ককে সঙ্গী করে ঘুমাতে যেতেন এবং পাখির ডাকের পরিবর্তে বোমার শব্দে তাদের ঘুম ভাঙত। এখন সেসব অতীত। রাজ্যে পালাবদলের পর এলাকায় বিরাজ করছে শান্তি। আতঙ্কের একদা লালদূর্গ আজ ভেঙে চুরমার। সর্বত্রই উড়ছে জোড়াফুল পতাকা। এর কৃতিত্ব তৃণমূল সরকার অবশ্যই দাবি করতেই পারে। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে প্রচারের ময়দানে ঝড় তুলছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভরসার মর্যাদা বজায় রাখতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি।
প্রার্থী তার নির্বাচনী প্রচারে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সরাসরি জনসংযোগকে। দলের নিচু তলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন। ক্লান্তি দূরে সরিয়ে রেখে গ্রামের সংকীর্ণ গলি থেকে শুরু করে সর্বত্র পদযাত্রা করছেন। এযেন তৃণমূলের নতুন প্রকল্প ‘দুয়ারে প্রার্থী’। ইতিমধ্যে প্রার্থী প্রতিটি অঞ্চলে একবার ঘুরে নিয়েছেন।
দলীয় প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা করার পর থেকেই অপূর্ব চৌধুরী প্রত্যেকটি বাড়িতে যাচ্ছেন, প্রবীণদের আশীর্বাদ নিচ্ছেন, মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করছেন। গত কয়েক বছরে এলাকায় হওয়া রাস্তাঘাট, পানীয় জল এবং রাজ্য সরকারের লক্ষ্মী ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবসাথী সহ নানান জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সাফল্যের কথা ভোটারদের কাছে কথা তুলে ধরছেন। সুযোগ পেয়ে এলাকাবাসী চাষের জন্য সেচখালে যাতে জল পাওয়া যায় এবং কর্মসংস্থানের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আবেদন করছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়াও মঙ্গলকোটে সিপিএম, বিজেপি ও কংগ্রেস প্রার্থী দিলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াইটা হবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। এখানে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্ট মজবুত। সঙ্গে উন্নয়ন তো আছেই। তাই জয়ের ব্যাপারের একশ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী অপূর্ব চৌধুরী জোর গলায় বলতে পারেন," দিদির আশীর্বাদ, এলাকায় উন্নয়ন এবং মানুষের ভালোবাসা আমার জয়ের আসল চাবিকাঠি।"
উন্নয়ন ও সাংগঠনিক শক্তির মাঝে লুকিয়ে আছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চোরাস্রোত। কয়েকটি এলাকায় দলের স্থানীয় নেতাদের ভাবমূর্তি খুবই খারাপ। কান পাতলেই তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ বালি খাদান, তোলাবাজি, কাটমানি আদায় সহ নানান অভিযোগ পাওয়া যাবে। কিন্তু বিরোধীরা এত দুর্বল, পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জায়গায় তারা নাই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অপূর্ব চৌধুরী দ্বিতীয়বারের জন্য বিধায়ক হতে চলেছেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তবে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে 'সেমসাইড' গোল হতে পারে।
Comments
Post a Comment