জল্পনার অবসান: সাংসদ অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে "বিদ্রোহী" সিপিএম নেতা প্রতিকুর রহমান
বাইজিদ মন্ডল: দক্ষিন চব্বিশ পরগনা:- দীর্ঘদিনের জল্পনা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখালেন প্রাক্তন বাম ছাত্রনেতা প্রতিকুর রহমান। শনিবার আমতলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিলেন তিনি। গত রবিবারই সিপিএমের সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন প্রতিকুর। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সরগরম ছিল রাজ্য রাজনীতি। বিমান বসুর দৌত্য কিংবা আলিমুদ্দিনের 'ধরে রাখার' চেষ্টা,কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। আজ, শনিবার অভিষেকের হাত ধরে প্রতীক উর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর
একটা বিষয় স্পষ্ট যে তৃণমূল ও বিজেপির নেতাও কর্মীদের দল পরিবর্তন অনেকটা মানুষের জামা পরিবর্তনের মতো। কিন্তু বামপন্থীদের দল পরিবর্তন অত সহজে হয় না। নীতিগত কারণে অনেকে হয়তো বসে যায়, কিন্তু আদর্শ বিসর্জন দিয়ে অন্য দলে যায় না। অবশ্য কেউ কেউ এর আগেও গেছে। তবে সংখ্যাটা কম। এবার প্রতীক উরের জামা পরিবর্তন। মাতৃভাষা দিবসে মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে মা-মাটি-মানুষের পথে ‘বিদ্রোহী’ সিপিএম নেতা প্রতীক-উর রহমান। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতীকুর রহমান তৃণমূলে যোগদান করেন। ঘটনাচক্রে, গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় সিপিএমের প্রতীকে লড়েছিলেন প্রতীকুর। দু’বছর পরে তাঁর হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা তুলে নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে বিচ্ছেদ-ঘটালো তরুণ সিপিএম নেতা। মূলত মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে আদর্শগত কারণেই প্রতীকুর রহমান এর লড়াই। তাই বলে তৃণমূলে যোগ দেওয়া? তিনি ডায়মন্ড হারবার যাদবপুর একাধিক এরিয়া কমিটির সম্পাদক, সদস্য এমনকি, সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্যেরাও প্রতীক-উরের সঙ্গে ঘাসফুলে যোগদান করেন। যেখানে গত শুক্রবার রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জবাবি ভাষণে তিনিই প্রতীকুরের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তাঁর কথায়,এই প্রসঙ্গ আমি যখন তুলি, আমার অনুভূতি ছিল সন্তান হারানোর শোকের মতো। সেলিম বলেন, ‘‘যখন আমি রাজ্য সম্পাদক হয়েছিলাম, বলেছিলাম, আমাদের কাছে ৩০টা তেজি ঘোড়া আছে। আমি কয়েক বছরের মধ্যে ৩০০টা ঘোড়া করব। তার পর বলেছিলাম, ৩০০ হয়ে গিয়েছে,এখন ১,০০০-এর দিকে যেতে হবে। সেখানে এই ধরনের একজন কর্মীকে হারানোর প্রশ্ন উঠলে আমার কাছে তা সন্তানহারা হওয়ার সমতুল্য। কিন্তু তার আগেই এক সাক্ষাৎকারে প্রতীকুর ইঙ্গিত দিয়ে ছিলেন যে শনিবার অভিষেকের হাত ধরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন,সেটাই বাস্তবে করেও দেখালেন তিনি। প্রতিকুর ঘাসফুলে যোগদান করার পর জানান, SIR ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে শুধু মাত্র রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করে যাচ্ছেন,তাই বিজেপি কে রুখতে TMC তে যোগদান করলাম। তৃনমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানান, সিপিএম এর পক্ষ থেকে যত মিছিল প্রতিবাদ দেখা যায় তাদের মধ্যে এই কিছু জন কে দেখে যায়, তার মধ্যে হলো ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার বাসুল ডাঙ্গা অঞ্চলের প্রতিকুর। বাকি গুলো টিভির পর্দায় ও সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়। অনেকে এমন আছে যারা নিজের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করতে আসেনি তাদের মধ্যে একজন প্রতিকুর রহমান,সে তার নিজের কোনো স্বার্থের জন্য রাজনীতিতে আসেনি। তিনি আরো জানান,এখনো পর্যন্ত কোনো বিরোধী দলের নেতা কর্মী আছে তারা জনসাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক অবশ্যই আমাদের সঙ্গে আস্তে আরেন তাদের জন্য দরজা খোলা আছে। ২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে এই রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Comments
Post a Comment